সর্বশেষ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

আকাশ থেকে ঝরে পড়ল শত শত পাখি!

আকাশ থেকে ঝরে পড়ল শত শত পাখি!

 আকাশ থেকে হঠাৎ ঝরে পড়ল শত শত পাখি! মেক্সিকোর রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল মৃত পাখি

ভাবুন তো—সকালের এক শান্ত শহর। রাস্তায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল। হঠাৎ করেই আকাশ যেন কালো হয়ে গেল। অসংখ্য পাখি একসঙ্গে নিচের দিকে ছুটে আসছে। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাদের অনেকগুলো আছড়ে পড়ল রাস্তায়!

২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, মেক্সিকোর Chihuahua রাজ্যের Cuauhtémoc শহরে ঘটে এমনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। স্থানীয় একটি নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে পুরো দৃশ্যটি। ভিডিওতে দেখা যায়, শত শত Yellow-headed Blackbird—এক ধরনের পরিযায়ী পাখি—একসঙ্গে আকাশ থেকে নিচে নেমে আসছে।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় ছিল, পাখিগুলো যেন হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। বিশাল ঝাঁকের বেশিরভাগ পাখি শেষ মুহূর্তে আবার উড়ে যেতে সক্ষম হলেও, অনেক পাখি মাটিতে আছড়ে পড়ে। পরে রাস্তার ওপর বেশ কিছু মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এই ঘটনার পরই শুরু হয় আসল রহস্য।

কী কারণে এতগুলো পাখি একই সময়ে আকাশ থেকে পড়ে গেল?

প্রথমদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকটি সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন, এলাকার দূষিত বাতাস বা হিটার থেকে বের হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়া পাখিগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আবার বিদ্যুতের তারের সঙ্গে সংঘর্ষ বা বৈদ্যুতিক শকের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনকি 5G প্রযুক্তিকেও দায়ী করা হয়েছিল—যদিও এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে বিশেষজ্ঞদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা ছিল আরও স্বাভাবিক।

তাদের ধারণা, কোনো শিকারি পাখি হয়তো ওপর থেকে ঝাঁকটির দিকে আক্রমণ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আতঙ্কিত হয়ে বিশাল পাখির দলটি একসঙ্গে দ্রুত দিক পরিবর্তন করার চেষ্টা করে। কিন্তু এত ঘন ঝাঁক যদি খুব নিচু দিয়ে উড়ে থাকে, তাহলে হঠাৎ সেই কৌশল বদলাতে গিয়ে অনেক পাখি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে পড়ে যেতে পারে।

তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট কারণ সে সময় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—এই পাখিগুলো স্থানীয় পাখি ছিল না। Yellow-headed Blackbird উত্তর আমেরিকার উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকা থেকে শীতের সময় দক্ষিণ দিকে পরিযান করে মেক্সিকোতে আসে। সেই দীর্ঘ যাত্রার সময়ই তারা Cuauhtémoc শহরের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই এটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। আকাশ থেকে একসঙ্গে এত পাখিকে পড়ে যেতে দেখে অনেকেই এটিকে রহস্যময় বা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—ভিডিওটি যতটা রহস্যময়, তার চূড়ান্ত কারণ ততটাই অনিশ্চিত ছিল।

এক মুহূর্তে আকাশ ভরে গেল শত শত পাখিতে…

পরের মুহূর্তেই তারা ছড়িয়ে পড়ল রাস্তায়।

প্রকৃতি কখনো কখনো এমন দৃশ্যের জন্ম দেয়, যার উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীদেরও থমকে যেতে হয়।

আর মেক্সিকোর সেই সকালটি আজও সেই অদ্ভুত প্রশ্নটি মনে করিয়ে দেয়—

আসলে কী হয়েছিল সেই আকাশে?

সূত্র: The Guardian-এর প্রতিবেদন — ঘটনাটি ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ Cuauhtémoc, Chihuahua-তে ঘটেছিল এবং বিশেষজ্ঞরা শিকারি পাখির আক্রমণে ঝাঁকটি আতঙ্কিত হওয়ার সম্ভাবনাকে উল্লেখ করেছিলেন।

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

 সুপারমার্কেটে ঢুকে পড়ল বিশাল ভালুক! তারপর যা করল, তা দেখে হতবাক সবাই!

সুপারমার্কেটে ঢুকে পড়ল বিশাল ভালুক! তারপর যা করল, তা দেখে হতবাক সবাই!

 সুপারমার্কেটে ভালুকের Shopping! 

ভাবুন তো—আপনি নিশ্চিন্তে supermarket-এ shopping করছেন। হঠাৎ দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, একজন নয়, কোনো মানুষও নয়—ধীরে ধীরে দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ছে একটি বিশাল কালো ভালুক!

শুনতে সিনেমার গল্পের মতো লাগলেও, যুক্তরাষ্ট্রের California-র Lake Tahoe এলাকায় এমনই অবাক করা ঘটনা ঘটেছিল।

📅 তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার
📍 স্থান: Lake Tahoe, California, USA

সেদিন একটি কালো ভালুক মানুষের মতোই supermarket-এর ভেতরে ঢুকে পড়ে। দোকানের কর্মী ও উপস্থিত মানুষদের জন্য মুহূর্তেই পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক।

কিন্তু সবচেয়ে অবাক করার বিষয় ছিল—ভালুকটি কোনো আতঙ্কিত প্রাণীর মতো এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করেনি। বরং supermarket-এর ভেতরে ঘুরে ঘুরে খাবারের সন্ধান করতে থাকে!

দোকানের তাক ও বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পর শেষ পর্যন্ত তার নজর যায় খাবারের দিকে। যেন বিশাল এই প্রাণীটি নিজের পছন্দের খাবার খুঁজতে সত্যিই ‘shopping’ করতে এসেছে!

ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয় এবং পরে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মধ্যে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই supermarket-এর সাধারণ shopping পরিণত হয় এক অবিশ্বাস্য wildlife encounter-এ।

তবে বিষয়টি যতটা মজার মনে হয়, বাস্তবে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তা রয়েছে এর মধ্যে।

Lake Tahoe ও California-র বিভিন্ন এলাকায় মানুষ ও কালো ভালুকের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। খাবারের গন্ধ, আবর্জনা কিংবা মানুষের ফেলে রাখা খাদ্য বন্য ভালুককে মানুষের বসতির কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে।

আর একবার কোনো ভালুক মানুষের কাছ থেকে খাবার পাওয়ার অভ্যাস করে ফেললে, সে একই জায়গায় আবারও ফিরে আসতে পারে।

এই কারণেই wildlife officials সাধারণত মানুষকে খাবার ও আবর্জনা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে এবং বন্য প্রাণীর কাছাকাছি না যেতে সতর্ক করেন।

তাই ১৮ আগস্ট ২০২০-এর সেই supermarket ঘটনা শুধু একটি ভাইরাল দৃশ্য ছিল না—এটি মানুষ আর বন্যপ্রাণীর ক্রমবর্ধমান কাছাকাছি চলে আসার একটি অদ্ভুত উদাহরণও।

একদিকে মানুষ তার প্রয়োজনের জন্য প্রকৃতির জায়গা ব্যবহার করছে…

আর অন্যদিকে খাবারের সন্ধানে বন্য প্রাণীরাও ঢুকে পড়ছে মানুষের জগতে।

আর সেই কারণেই হয়তো কোনো একদিন supermarket-এর দরজা খুলে আপনি এমন একজন ‘customer’-কে দেখতে পারেন, যার হাতে shopping basket নেই… কিন্তু ক্ষুধা আছে প্রচণ্ড! 🐻

এমনই অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য ও সত্য ঘটনা জানতে Bichitro-কে Follow করুন।

দাঁতের চিকিৎসায় পাথর? ১,০০০ বছর আগে মায়ানদের অবিশ্বাস্য কৌশল!

দাঁতের চিকিৎসায় পাথর? ১,০০০ বছর আগে মায়ানদের অবিশ্বাস্য কৌশল!

 ১,০০০ বছর আগে দাঁতের চিকিৎসা কেমন ছিল?


প্রায় এক হাজার বছর আগে, মায়ান সভ্যতার মানুষ দাঁতের চিকিৎসায় এমন এক পদ্ধতি ব্যবহার করত, যা আধুনিক গবেষকদের কাছেও অবাক করার মতো।

দাঁতে গর্ত বা ক্ষয় দেখা দিলে তারা সেখানে ছোট ছোট জেড পাথরের টুকরো বসিয়ে দিত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পাথরগুলো শুধু সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহার করা হতো না। এগুলোকে দাঁতের সঙ্গে আটকে রাখতে ব্যবহার করা হতো এক ধরনের উদ্ভিদজাত আঠালো পদার্থ

গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সেই প্রাচীন আঠার কিছু উপাদানের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। অর্থাৎ, এটি দাঁতের ভেতরে ক্ষতিকর জীবাণুর বিস্তার কমাতেও ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

আরও চমকপ্রদ ব্যাপার হলো—প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে উদ্ধার করা কিছু মায়ান দাঁতে এই ধরনের পাথরের সংযোজন শত শত বছর পরও বেশ দৃঢ় অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ভাবুন তো, আধুনিক ডেন্টিস্ট্রি আসার বহু শতাব্দী আগেই মানুষ দাঁতের ক্ষয় সামলাতে পাথর ও উদ্ভিদজাত উপাদানের এমন সমন্বয় ঘটিয়েছিল!

মায়ানদের এই প্রাচীন পদ্ধতি তাদের চিকিৎসাবিদ্যা, উপাদান সম্পর্কে জ্ঞান এবং কারিগরি দক্ষতার এক অসাধারণ উদাহরণ।

Source: ScienceDirect

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

মানুষ নেই... তবুও প্রতিদিন রান্নাঘরে খাবার! শেষ পর্যন্ত ক্যামেরায় ধরা পড়ল আসল সত্য!

মানুষ নেই... তবুও প্রতিদিন রান্নাঘরে খাবার! শেষ পর্যন্ত ক্যামেরায় ধরা পড়ল আসল সত্য!


মানুষ না থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বাসায় খাবার রাখা হতো—কারা রাখতো?
অসম্ভব সত্য ঘটনা (True but Unbelievable)

ভাবুন তো, একটি বাড়ি। জানালা-দরজা বন্ধ। প্রতিবেশীরা জানেন, সেখানে বহু বছর ধরে কোনো মানুষ থাকেন না। তবুও প্রতিদিন সকালে বাড়ির ভেতরে নতুন করে খাবার রাখা থাকত!

শুনতে যেন ভূতের গল্প মনে হলেও, এর পেছনের সত্য ঘটনাটি আরও অবাক করার মতো।

জাপানের একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় এক বৃদ্ধা একাই বসবাস করতেন। তাঁর সন্তানরা শহরে চলে যাওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন একাকী জীবন কাটিয়েছিলেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীলা ও পরোপকারী।

একদিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর আর তিনি সেই বাড়িতে ফিরে আসেননি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কয়েক সপ্তাহ পর প্রতিবেশীরা লক্ষ্য করলেন—বাড়ির রান্নাঘরে প্রতিদিনই নতুন খাবার রাখা হচ্ছে।

প্রথমে সবাই ভেবেছিল, হয়তো বৃদ্ধা গোপনে ফিরে এসেছেন। কেউ আবার অলৌকিক কিছু ঘটছে বলেও গুজব ছড়াতে শুরু করল।

রহস্যের সমাধান করতে একদিন কয়েকজন প্রতিবেশী দূর থেকে নজর রাখতে শুরু করেন।

অবশেষে সত্য প্রকাশ পেল।

প্রতিদিন সকালে বৃদ্ধার বাড়িতে আসত একটি ছোট ডেলিভারি ভ্যান। চালক নীরবে দরজার সামনে খাবার রেখে চলে যেতেন।

আসলে, বৃদ্ধা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই কাছের একটি খাবারের দোকানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটি ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। তিনি আগাম অর্থ পরিশোধ করেছিলেন এবং অনুরোধ করেছিলেন—তিনি যদি কোনোদিন বাড়িতে না-ও থাকেন, তবুও প্রতিদিন যেন তাঁর বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।

কিন্তু কেন?

কারণ, বৃদ্ধা জানতেন তাঁর বাড়ির আশেপাশে প্রতিদিন কয়েকটি ভবঘুরে বিড়াল, কুকুর এবং বন্য পাখি খাবারের জন্য অপেক্ষা করে। বছরের পর বছর তিনি তাদের খাওয়াতেন। তিনি চাইতেন না, তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রাণীগুলো অভুক্ত থাকুক।

ডেলিভারি কর্মী জানতেন, খাবার মানুষের জন্য নয়—ওই নিরীহ প্রাণীদের জন্য।

এই ঘটনাটি দ্রুত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনেক প্রতিবেশীও সেই প্রাণীদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেন।

কখনো কখনো পৃথিবীর সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনাগুলোর পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো রহস্য নয়, বরং এক অসাধারণ মানবিকতা।

কারণ সত্যিকারের ভালোবাসা শুধু মানুষের জন্য নয়—নীরব প্রাণীদের জন্যও হতে পারে।


বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

কোটি টাকার বিমানবন্দর! কিন্তু যাত্রী নেই! বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় Ghost Airport!

কোটি টাকার বিমানবন্দর! কিন্তু যাত্রী নেই! বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় Ghost Airport!

 


ভাবুন তো...

হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিশাল রানওয়ে, অত্যাধুনিক টার্মিনাল, কন্ট্রোল টাওয়ার—সবই প্রস্তুত।

কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো...

সেখানে নেই যাত্রী, নেই বিমানের ভিড়, নেই ব্যস্ততা।

বছরের পর বছর বিমানবন্দরটি প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকে!

শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও এটি একেবারেই সত্য ঘটনা।

স্পেনের Ciudad Real International Airport-কে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত "Ghost Airport" বা "ভূতুড়ে বিমানবন্দর"গুলোর একটি বলা হয়। বিমানবন্দরটি নির্মাণে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) ব্যয় করা হয়েছিল। এটি তৈরি করা হয়েছিল রাজধানী মাদ্রিদের বিকল্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে।

২০০৮ সালে চালু হওয়ার পর পরিকল্পনা ছিল, প্রতি বছর লাখ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করবে। কিন্তু বাস্তবে তা কখনোই ঘটেনি।

বিমানবন্দরটি রাজধানী মাদ্রিদ থেকে অনেক দূরে হওয়ায় অধিকাংশ এয়ারলাইন্স এখানে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ দেখায়নি। যাত্রীও ছিল খুবই কম। ফলে কয়েক বছরের মধ্যেই প্রকল্পটি বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দরটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে এই বিশাল বিমানবন্দর দীর্ঘ সময় প্রায় জনশূন্য অবস্থায় পড়ে ছিল। অনেকেই একে "Ghost Airport" নামে ডাকতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে এটি মাঝে মাঝে বিমান সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্গো কার্যক্রমে ব্যবহার করা হলেও নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটের ব্যস্ততা আর কখনোই ফিরে আসেনি।

২০২৪ সালে স্পেনের এমন একাধিক "Ghost Airport"-এর গল্প আবারও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। বিশাল অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও যাত্রী না থাকার এই ঘটনা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়।

এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শুধু বিশাল বিনিয়োগ করলেই সফলতা নিশ্চিত হয় না। সঠিক পরিকল্পনা, অবস্থান এবং বাস্তব চাহিদার গুরুত্ব অনেক বেশি।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—পৃথিবীতে এমন বিমানবন্দরও রয়েছে, যেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু যাত্রী নেই বললেই চলে!

শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

আর্জেন্টিনায় মানুষ কেন হঠাৎ কুকুর-শিয়াল হয়ে যাচ্ছে?

আর্জেন্টিনায় মানুষ কেন হঠাৎ কুকুর-শিয়াল হয়ে যাচ্ছে?



আর্জেন্টিনায় তরুণদের মধ্যে 'প্রাণী হয়ে ওঠার' অদ্ভুত ট্রেন্ড!

আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে সম্প্রতি এক অদ্ভুত সামাজিক প্রবণতা ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। অনেক কিশোর-কিশোরী নিজেদের মানসিক বা আধ্যাত্মিকভাবে বিভিন্ন প্রাণীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করেন। তারা নিজেদের "থেরিয়ান (Therian)" বলে পরিচয় দেন।

এদের অনেকেই কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের মুখোশ পরে পার্কে জড়ো হন। কেউ চার হাত-পায়ে দৌড়ান, কেউ গাছে ওঠেন, আবার কেউ প্রাণীদের আচরণ অনুকরণ করেন। তবে তারা দাবি করেন, এটি কোনো নাটক বা কসপ্লে নয়; বরং এটি তাদের আত্মপরিচয়ের একটি অংশ।

এই ট্রেন্ডটি টিকটকে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে #therian হ্যাশট্যাগে লাখো ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনায় এর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি সব ক্ষেত্রে মানসিক রোগের লক্ষণ নয়। অনেকের জন্য এটি আত্মপ্রকাশ, কল্পনাশক্তি ও একটি কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার উপায়। তবে বিষয়টি নিয়ে সমাজে কৌতূহল, সমালোচনা এবং বিতর্ক—সবই চলছে। 

শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

১,২০০ বছর আগের ভাইকিংয়ের পায়খানা! 😱 আজ যার মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ টাকা!

১,২০০ বছর আগের ভাইকিংয়ের পায়খানা! 😱 আজ যার মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ টাকা!

ভাবুন তো, একটি মানুষের মল কয়েক শত বছর ধরে সংরক্ষিত থাকার পাশাপাশি কোটি টাকারও বেশি মূল্য পেতে পারে! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমনটাই সত্য। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফসিলে পরিণত হওয়া মানব মলের নমুনাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি আজ ইতিহাসের অমূল্য নিদর্শন। প্রায় ১,২০০ বছর পুরোনো এই নমুনার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৯ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ লাখ টাকার সমান।

এই বিস্ময়কর আবিষ্কারটি ১৯৭২ সালে ইংল্যান্ডের ইয়র্ক শহরে ঘটে। সেখানে লয়েডস ব্যাংকের নতুন ভবন নির্মাণের সময় প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মধ্যেই এটি উদ্ধার করা হয়। যেহেতু এটি ব্যাংকের নির্মাণস্থল থেকেই পাওয়া যায়, তাই এর নাম রাখা হয় "লয়েডস ব্যাংক কপ্রোলাইট (Lloyds Bank Coprolite)"

আকারের দিক থেকেও এটি বেশ ব্যতিক্রমী। প্রায় ৮ ইঞ্চি লম্বা এবং ২ ইঞ্চি চওড়া এই ফসিলটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় মানব কপ্রোলাইটগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

গবেষকদের ধারণা, এটি সম্ভবত নবম শতাব্দীর এক ভাইকিং ব্যক্তির। বিশ্লেষণে জানা যায়, তার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ছিল প্রধানত মাংস ও রুটি। তবে আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, তার অন্ত্রে প্রচুর পরজীবী কৃমি—বিশেষ করে হুইপওয়ার্ম ও অন্যান্য অন্ত্রের পরজীবী—বসবাস করত। ফলে ধারণা করা হয়, তিনি জীবদ্দশায় প্রায়ই পেটের নানা সমস্যায় ভুগতেন।

এই নমুনাকে ঘিরে আরেকটি মজার ঘটনা ঘটে ১৯৯১ সালে। প্রাচীন মানব মল নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্ড্রু জোন্স এর বীমামূল্য নির্ধারণ করতে গিয়ে রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, "এটি আমার দেখা সবচেয়ে অসাধারণ মলের নমুনা। এর মূল্য রাজমুকুটের রত্নের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়!" তার এই মন্তব্য পরবর্তীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বর্তমানে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি ইংল্যান্ডের ইয়র্কে অবস্থিত জর্ভিক ভাইকিং সেন্টারে বিশেষভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। যদিও ২০০৩ সালে দুর্ঘটনাবশত এটি মাটিতে পড়ে তিন টুকরো হয়ে যায়, পরে বিশেষজ্ঞদের প্রচেষ্টায় সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়।

আজও জর্ভিক ভাইকিং সেন্টার গর্বের সঙ্গে এই বিরল নিদর্শনটি দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শন করে। এমনকি ২০২১ সালে তারা "পু ডে" নামে একটি অনলাইন কর্মশালারও আয়োজন করে, যেখানে ব্যাখ্যা করা হয় কীভাবে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো একটি মানব মল প্রত্নতাত্ত্বিকদের সেই সময়কার মানুষের খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য, রোগব্যাধি এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য জানাতে সাহায্য করছে।

প্রথম দেখায় বিষয়টি যতই হাস্যকর মনে হোক না কেন, বিজ্ঞানীদের কাছে এই ফসিলটি আসলে অতীত সভ্যতার এক অসাধারণ তথ্যভাণ্ডার, যা ইতিহাসের অজানা অনেক রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।